NCC Bank
- Advertisement -NCC Bank
১৯ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

“এক পেইসারের বেশী নয়, না থাকলেই ভালো হয়”

- Advertisement -

মাহরুশ প্রত্যয়: ঢাকা টেস্টের ঠিক আগের দিনেও অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, হসান মাহমুদও ছিলেন ওই তালিকায়। আসলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পেইসারদের বাস্তবতা এমনই। সম্ভাবনা ছিল অন্তত দুই পেইসার নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ, হয়নি। স্কোয়াডে পাঁচ পেইসার অথচ একাদশে একজন! যখন এই পাঁচ একের প্রশ্ন আসে, তখন ম্যানেজম্যান্টের বুলি ফোঁটায়, ড্রেসিংরুমের স্বাদ দেওয়ার অজুহাত দেখায়। হাসান মাহমুদের বেলায় এমন তত্ত্ব হয়তো খাঁটে কিন্তু তাসকিন, এবাদতরা আর কতো স্বাদ নেবেন ড্রেসিংরুমের, কে জানে! যারা দল নির্বাচন করেন তাদের ভাবনার চাইতে হয়তো বারমুডা ট্রায়াংগেলের রহস্য ভেদ করা বেশী সহজ।

চট্টগ্রাম টেস্টে ছিল ওই এক পেইসারই, মোস্তাফিজ। তার ফলো থ্রুতে নাকি সমস্যা, ঢাকা টেস্টে তাই মোস্তাফিজের বদলে রাহী। মনে হচ্ছে বিসিবির আদর্শ, ঘরের মাঠে এক পেসারের বেশী নয়, না থাকলেই ভালো হয়।

দেশের মাটিতে অবহেলায় ধুকতে থাকেন পেইসাররা। অথচ দেশের বাইরে যতবারই প্রয়োজন হয়েছে ওই পেইসাররাই সেই প্রয়োজন মিটিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে এখন পর্যন্ত আট ইনিংসে বল করেছেন রাহী, উইকেট নিয়েছেন ঊনিশটা, গড় ত্রিশের আশেপাশে, অথচ ঘরের মাঠে কদাচিত সুযোগ হয় একাদশে। এই দায় কে নেবে? অবহেলার জবাব দেয়ার জায়গা ওই পারফর্মেন্সই, আর কী-ইবা করার আছে।

ভারত সফরে স্বস্তি বলতে ছিল পেইসারদের পারফর্মেন্স, বিশেষ করে সেই আবু জায়েদ রাহী, উইকেট নিয়েছেন, তাও কোহলি, পূজারাদের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের। রাহী যখন উইকেট পান, তার সেলিব্রেশন বলে তিনি উড়তে চান, কিন্তু ঘরে তো পাখা বাঁধা, উড়বেনই-বা কিভাবে।

ঢাকা টেস্ট বাদ দিলে বাংলাদেশের শেষ আট টেস্টে পেসাররা যতোটা সুযোগ পেয়েছেন, কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন, পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলে, নির্দিষ্ট এই সময়ে তাদের উইকেট ত্রিশের বেশী। অথচ শেষ আট টেস্টে ছয় পেইসার খেলিয়েছে বাংলাদেশ। অবিশ্বাস্য।

ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটের বড় দল, পেইসই তাদের শক্তি। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে পাল্লা দিয়ে চলতে প্রয়োজন পেইসের সঙ্গে স্পিনেও মানিয়ে নেওয়া, আধিপত্য বিস্তার করা। ইংলিশরা তাই করেছে। ঘরোয়া, আন্তর্জাতিক দুই ঘরনার ক্রিকেটেই তাদের স্পিনারদের তৈরি করেছে, সময় দিয়েছে। উদাহরণ-তো চোখের সামনেই। চেন্নাই টেস্টে ভারতের বিশের উইকেটের এগারোটা নিয়েছে স্পিনারররা। অথচ বাংলাদেশ? পুরোনো আমলের পুরনো আইডিয়াই আঁকড়ে ধরে পরিকল্পনা সাজিয়ে যাচ্ছে, হয়তো ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় থাকবে। বাড়তি কিছুর কী দরকার? চলছে তো ক্রিকেট, চলবেও হয়তো, এভাবেই।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img