NCC Bank
- Advertisement -NCC Bank
১৪ আগস্ট ২০২২, রবিবার

ক্লাইভ লয়েডের খোলা চিঠিতেই উদ্বুদ্ধ কায়েল মায়ার্স!

- Advertisement -

মিড অনে বল ঠেলে সাদামাটা উদযাপন। মুখে এক চিলতে হাসি। কায়েল মায়ার্স কি করেছেন, সেটা হয়তো নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি….প্রমাণ করেছেন সাদা পোষাকে ক্যারিবিয়ান আভিজাত্য এখনো বীরদর্পে টিকে আছে। ক্যালিপসো সুর এখনো মূর্চ্ছণা ছড়ায় ক্রিকেটের বাইশ গজে। টেনে আনে টেস্ট ক্রিকেটের সত্যিকারের আভিজাত্য, রোমাঞ্চ। প্রথম ডেব্যুটান্ট হিসেবে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ডাবল হানড্রেড করা একমাত্র ক্রিকেটার, কায়েল মায়ার্স।

দুশো করেছেন। নটআউট থেকে দলকে জিতিয়েছেন। চতুর্থ ইনিংসে ডেব্যুটান্টের সর্বোচ্চ রান। ১১২ রান করে এতোদিন সবার উপরে ছিলেন ভারতের আব্বাস আলি বেগ। তাকেই টপকেছেন মায়ার্স। ওই একটা ইনিংসেই উপমাহদেশে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটাও এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

মহাকাব্যিক ইনিংস যেনো সংখ্যার ফুলে গাথা মালা। এনক্রুমা বোনারকে নিয়ে ইতিহাস গড়া জুটি, যে জুটি পাল্টে দিয়েছে ম্যাচের সব হিসাব, যাদের কাছে ভুল প্রমান হয়েছে বিশ্লেষকদের ব্যাখা, অনুমান। বোনার-মায়ার্সের জার্নি শুরু হয়েছিল চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে। উইন্ডিজ  তখন ৩ উইকেট ৫৯। সেখান থেকে ইতিহাস গড়ার পথে দুই অভিষিক্তের পথচলা।

প্রায় তিন সেশন ব্যাটিং করেছেন। ৫ম দিনের পুরো হাইলাইটস জুড়ে বোনার-মায়ার্স। যেখানে বাংলাদেশের স্পিনারদের ছড়ি ঘোরানোর কথা, সেখানে একটু হলে ৫৬ বছর আগের রেকর্ড চুরমার করতো এই জুটি। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অভিষেক ম্যাচে খালিদ আব্দুল্লাহ এবং আব্দুল কাদির ২৪৯ রানের জুটি গড়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সাথে ড্র করেছিল পাকিস্তান। মায়ার্স এবং বো এই তথ্য হয়তো জানতেনও না….রেকর্ড ছুঁতে পারেননি তাতে কি, দুশো ষোলোর পার্টনারশিপে তালিকায় তারা দ্বিতীয়।

বোনার-মায়ার্সের ৭৪ ওভারের জার্নি থামিয়েছেন তাইজুল। কিন্তু তার আগেই, মায়ার্সের ব্যাটে দারুন এক রেকর্ড। অভিষেকই ম্যাজিকাল ফিগারে। ১৮ বছর পর টেস্টে কোন অভিষিক্তের চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি। ৮ নাম্বার ক্রিকেটার হিসেবে এই ল্যান্ডমার্কে, কিন্তু রানে সবার উপরে। ৬১ বছর আগের রেকর্ড টপকেছেন কায়েল মায়ার্স। বনারের আউটের পরও অবিচল ছিলেন মায়ার্স। তাকে রেখে ফিরে গেছেন জশুয়া সিলভা ও কেমার রোচ। কিন্তু ম্যাচের জিত যে তাঁর ব্যাটেই লেখেছিল ক্রিকেট বিধাতাই হয়তো শুধু জানতেন। এই ম্যাচ জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হবে সেটা জানা ছিল উইন্ডিজেদের। ইতিহাসতো গড়েছেনই, বদলে দিয়েছেন অনেক রেকর্ড। ৩৯৫ রানের টার্গেট ৩ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌছে যায় সফরকারিরা। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিতার ৫ম জায়গাটায় এখন উইন্ডিজরা।

সিরিজ শুরুর আগে ক্যারিবিয়ান দলকে খোলা চিঠি লিখেছিলেন ক্লাইভ লয়েড। হারার আগে না হারার কথা বলেছিলেন। সেটাই যেন হলো। ক্লাইভ লয়েডের ওই খোলা চিঠিই কি তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বদলে দিল । হয়তো বদলে দিল মায়ার্স-বোনারের ক্রিকেট জীবন। অভিনন্দন ওয়েস্টইন্ডিজ, অভিনন্দন কায়েল মায়ার্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৪৩০ এবং ২২৩ ( মুমিনুল ১১৫, লিটন ৬৯, মুশফিক ১৮) কর্নওয়াল ৩/৮১, ওয়ারিকান ৩/৫৭

উইন্ডিজ ২৫৯ এবং ৩৯৫  ( কায়েল মায়ার্স ২১০*, বোনার ৮৬) মিরাজ ৪/১১৩

 

 

 

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img