৭ ডিসেম্বর ২০২২, বুধবার

নিউজিল্যান্ডে ভাতের কষ্ট দূর হলো টাইগারদের

- Advertisement -

দেব চৌধুরী: সকাল সোয়া সাতটার মতো হবে। হিসেব মিলিয়ে দেখলাম, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে তখন দুপুর দুটো পেরিয়ে গেছে। দুপুর, খাবার সময়। বাঙ্গালি হলে ভাত খাওয়ার আয়োজনে ব্যস্ত থাকার কথা, অথবা খাওয়া হয়ে গেছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা কি করছেন? কি খাচ্ছেন? বা কি খেয়েছেন? অনেকগুলো প্রশ্ন মাথায় ছিল। কয়েকজনকে কল দিলাম, যাদের নাম উল্লেখ করার কোন সুযোগ নেই।

প্রথম ক্রিকেটার (ব্যাটসম্যান):

দাদা, কি খবর?

ভালো। খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কি?

আর বইলেন না। গতকাল থেকে ভাত খাইতে পারতেছি। আজকে দুপুরে খাইলাম চিকেন টিক্কা, অল্প একটু রাইস, সবজি আর রুটি। আলহামদুলিল্লাহ। এখন শান্তি লাগতেছে। একটু আগেই খাইলাম। আপনাদের কেমন চলতেছে? মাত্রতো ঘুম থেকে উঠলেন….

উঠছি অনেক্ষণ আগেই। দুইদিন ধরে ভাত পাওয়া যাচ্ছে, তাইলে প্রথম দুই দিনের খাবার কি ছিলো?

যেদিন প্রথম আসলাম ওই দিনই একটা মেন্যু দিয়ে দিছিলো। পরের দিন তিন বেলা কি খাবো, আগের দিন বলে দেয়া লাগবে। ওরা “সেই মতো” খাবার দরজার বাইরে রেখে যাবে। প্রথম দিন আমি ডিনারে অর্ডার দিছিলাম একটা “বিফ শর্মা”। পরে যখন খাবার আসলো, দেখলাম একটা লম্বা রুটির মতো। মুখে দিয়ে দেখি রুটি শক্ত, ভেতরের তরকারি অর্ধেক সেদ্ধ !! কি যে কষ্টে রাত গেছে দাদা, বোঝাইতে পারবো না।

বলেন কি!! রাতে পরে কি খাইছিলেন?

কিছুই না। ওইভাবেই শুইয়া ছিলাম। উপায় নাই তো, কি করবো? পরে শুনলাম “উবার ইটসে” অর্ডার করা যায়। ভাবছিলাম ওইখানেই অর্ডার করবো। পরে আর করা হয় নাই। গতকাল থেকেতো পছন্দের খাবারই পাচ্ছি।

রাতে কি খাবেন?

ভাতের কথা বলছি। সাথে চিকেন, ডাল আর সবজি। এগুলা এখন থেকে পাওয়া যাবে। ডাল খাওয়া হয় নাই। আজকে খাবো।

নিউজিল্যান্ডে হোটেল রুমের কোয়ারেন্টিনে এক ক্রিকেটারের খাবারের অভিজ্ঞতা তো শুনলেন। বাকিদের অভিজ্ঞতাও কম বেশি একই রকম। কয়েকজন আছেন যাদের ভাত না খেলেও সমস্যা হয় না। কিন্তু জাতীয় ক্রিকেট দলের ৪/৫ আছেন, যাদের অন্ততো একবেলা ভাত খাওয়ার অভ্যাস। আপাতত খাবার সমস্যা মিটেছে। এটাই বড় কথা।

এবার দ্বিতীয় ক্রিকেটারের কথা (অলরাউন্ডার)

কি দেব ভাই? নিউজ করার জন্য ফোন দিছেন?

একদম ঠিক। নিউজ করবো। কেমন যাচ্ছে? কি অবস্থা, এসব আর কি….

বলেন। নিউজের জন্যেইতো কল দিবেন!! এমনিতেতো আর খোঁজ নেন নাই। ঘরে আটকা আছি দাদা। কষ্ট হলেও বাসায় কথা বলি। নিজেরাই নিজেদের সাথে (ক্রিকেটারদের মধ্যে) ভিডিও কলে কথা বলি। তারপরও সময় কাটতে চায় না।

কি করবেন? নিয়মতো মানাই লাগবে। বাথরুম পরিষ্কার করছেন?

(অট্টহাসি) দাদা, প্রথম দিন আইসাই বুচ্ছি, সবকিছু করা লাগবে খুব হিসেব করে। এজন্য বাথরুম ব্যবহার করি সাবধানে। যখন যাই, তখনই পরিষ্কার করে রাখার চেষ্টা করি, যাতে পরে আবার নোংরা না লাগে। চার দিন অভ্যাস হয়ে গেছে দাদা। এইটাও এক রকমের শিক্ষা।

অবশ্যই শিক্ষা। জীবনে সব শিক্ষাই কমবেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড স্যাম্পল দিছেন?

দিছি মানে!! কয়বার দিছি, এইটা জিগান।

এরপর আরো মিনিট চারেক অলরাউন্ডারের সাথে অলরাউন্ডারের কথা হলো। ইচ্ছে করেই তাকে কোভিড বিষয়ে বেশি কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। তৃতীয় ক্রিকেটারের সাথে কথা হলো কোভিডসহ অন্যান্য ইস্যুতে।

তৃতীয় ক্রিকেটার (ব্যাটসম্যান)

(ঘুম জড়ানো গলায়) দেব চৌধুরী ….

ঘুম ভাংগাইলাম নাকি!! সরি ভাই।

আরে অসুবিধা নাই। হুদাই ফরমালিটি করতেছেন। কেমন যাচ্ছে?

জ্বি ভাই, ভালোই। ভাত ঘুম দিছেন নাকি?

হা হা হা হা …. একটু শুইছিলাম। চোখ লেগে গেছে।

ভাই, কোভিডের স্যাম্পল কি দিছেন?

দুই বার। গতকালও (শনিবার) নিয়ে গেছে। শুধু কি স্যাম্পল নেয়া!! প্রতিদিন সকালে এসে শরীরের “টেম্পারেচার মাপে”, আরো কয়েকটা টেস্টও নাকি করবে। কাল (সোমবার) আবার স্যাম্পল নিবে। নিয়ম আর নিয়মরে ভাই!!

এইটা ভালো না?

কোনটা?

এই যে এতোরকম নিয়ম? এগুলোতো আপনাদের ভালোর জন্যই….

হ, তাতো অবশ্যই। সবঠিক থাকলে চার তারিখে গ্রুপ করে প্র্যাকটিস শুরু হবে। দোয়া কইরেন আমাদের জন্য।

অবশ্যই ভাই। ভালো থাকবেন। শরীরের যত্ন নিয়েন।

ওকে দাদা। আল্লাহ হাফেজ।

নিউজিল্যান্ডে থাকা জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটারের সাথে কথাবার্তার কিছু অংশ পুরো দল বা বাকি ক্রিকেটারদের সম্পর্কে অবশ্যই পূর্ণ ধারণা দেয় না। কিন্তু কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যায়। অলরাউন্ডার সেই চেষ্টাই করেছে। এবং সঙ্গত কারণেই কোন ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ করা হলো না।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img