NCC Bank
- Advertisement -NCC Bank
১২ আগস্ট ২০২২, শুক্রবার

পাইলট যখন রিয়াদ-মমিনুল, আকাশে তখন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স

- Advertisement -

মিরপুরে বুধবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াদের গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স এবং সোহানের শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।  দুদলের জম্পেশ লড়াইয়ে শেষ হাঁসি হেসেছে রিয়াদের দল। ৭বল হাতে রেখে  শেখ জামালকে গাজী গ্রুপ হারিয়েছে ৭ উইকেটে।

প্রথম ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও উদ্বোধনী জুটিতে ঝলক দেখিয়েছেন আশরাফুল আর সৈকত আলী । সোমবার এদের জুটি থেকে আসে ৭৩, বুধবার ৬৯। আগের ম্যাচের নড়বড়ে আশরাফুল যখন নিজের মোকাবেলা করা প্রথম বলকেই পাঠালেন সীমানার ওপারে, গাজী গ্রুপের বোলারদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তা হয়তো অনুমান করাই যায়। পাওয়ারপ্লেতে দুজনের উইলো থেকে  আসে ৫১ রান।

নবম ওভারের প্রথম বলে সৌম্য সরকার যখন বোল্ড করলেন সৈকত আলীকে, তার নামের পাশে তখন ৩৩ রান, দলীয় সংগ্রহ ৬৯। ক্রিজে আসলেন নতুন ব্যাটসম্যান নাসির হোসেন, অন্যপাশে অবিচল মোহাম্মদ আশরাফুল। ৪ ছক্কায় ৪১ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে আশরাফুল দেখিয়ে গেছেন বড় সংগ্রহের রাস্তা, তাকে ফিরিয়েছেন আরিফুল হক। ১২ ওভারে শেখ জামালের সংগ্রহ তখন ৯৯।

আগের ম্যাচে রানের খাতা খুলতে না পারা নাসির হোসেন জ্বলে ওঠার আভাস দিয়েছিলেন। সমান ১ টা করে চার-ছক্কায় রিয়াদের বলে ২০ রান করে ফিরেছেন ১৫০ এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করা নাসির। জায়গা বানিয়ে লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মমিনুল হকের হাতে। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ফিরেছেন ১১ রানে। বোলার-ফিল্ডারের নামটাও একই, রিয়াদ-মমিনুল। ১২ ওভারে ৯৯ থেকে ১৬  ওভারে শেখ জামালের সংগ্রহ ১১৯, তাদের রানের লাগাম টেনে ধরার মূল কৃতিত্ব গাজী অধিনায়ক রিয়াদের।

শেখ জামালের রান ১৫০ পেড়িয়েছে বাংলাদেশের একসময়ের নিয়মিত ক্রিকেটার হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান জিয়াউর রহমানের কৃতিত্বে। ২ ছক্কায় তার সংগ্রহ ২১। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫১ রান তোলা শেখ জামালের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪১ রান আশরাফুলের।  গাজী গ্রুপের পক্ষে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মুকিদুল মুগ্ধ ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১ উইকেট নেওয়া নাসুম আহমেদ রান খরচে ছিলেন কিপ্টে, ৪ ওভারে  মাত্র ২০ রান খরচ করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

ছবিঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ ইন্টারনেট

লক্ষ্য ১৫২, গাজী গ্রুপ ওপেনারদের উদ্দেশ্যও ছিল পরিস্কার। সাহাদাত হোসেন দিপু এবং সৌম্য সরকার, দুই ওপেনারই শুরুতেই ছিলেন রান তোলায় মনযোগী। প্রথম ওভারেই আসে ১৪। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তাদের জুটি। দুজনেই ফিরেছেন ১৩ রান করে, এক ওভারের ব্যবধানে দুজনকেই ফিরিয়েছেন অফস্পিনার এনামুল।

প্রাথমিক ধাক্কা সামলেছেন বাংলাদেশের দুই কাপ্তান, টি-টুয়েন্টির মাহমুদুল্লাহ-টেস্টের মমিনুল। দুজনের মধ্যে মমিনুল ছিলেন বেশি আগ্রাসী। টেস্ট ব্যাটসম্যান তকমা পাওয়া মমিনুল ক্রিজে এসেই খেলেছেন চার-ছক্কার ফুলঝুরি। সময় যত গড়িয়েছে খোঁলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে রান তোলায় মনযোগী হয়েছেন রিয়াদ। দুজনেই পাল্লা দিয়ে তুলেছেন রান।

ম্যাচের যখন বাকি ৫ ওভার , গাজী গ্রুপের জয়ের জন্য রান দরকার ৪১। ক্রিকেট ভক্তদের মনে উঁকি দিচ্ছে ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর সমাপ্তির সম্ভাবনা। কিন্ত সব সমীকরণ ভেস্তে দিয়ে শেখ জামালের মুঠো থেকে জয় ছিনিয়ে আনেন বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ সেনানি। রান তাড়ায় পটু রিয়াদ বরাবরের মতোই সাবলিল ছিলেন। ঠান্ডা মাথায় পুরো ইনিংস গড়েছেন, দলকে জয়ের বন্দরে নেওয়ার পথ সুগম করেছেন।  নিজে অর্ধশতক করেছেন, একই ওভারে অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন মমিনুলও।

দলের জয় থেকে ১৫ রান দূরে রেখে মমিনুল ফিরে গেলেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি। জাকির হাসানকে সঙ্গে নিয়ে শেষ কাজটুকু করেছেন রিয়াদ। রিয়াদ অপরাজিত ছিলেন ৬২ রানে, ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালানো মমিনুল করেন ৫৪।  শেখ জামালের হয়ে ২১ রানে ২ উইকেট নেন এনামুল হক। ম্যাচসেরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img