১ ডিসেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

পেনাল্টি মিস করেও জিতেছে ইউক্রেন

- Advertisement -

নর্থ মেসিডোনিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোতে ছয় ম্যাচের জয়খরা ঘুচিয়েছে ইউক্রেন। ম্যাচের ২৯ মিনিটে নর্থ মেসিডোনিয়ার জালে বল পাঠান আন্দ্রি  যারমোলেঙ্কো। মিনিট পাঁচেক পর ব্যবধান দ্বিগুন করেন রোমান যারেমচুক। নর্থ মেসিডোনিয়ার হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন এজান আলিওস্কি। ২-১ গোলের পরাজয়ে আরেকটা লজ্জ্বার রেকর্ডের স্বাদ পেলো নর্থ মেসিডোনিয়া। অষ্টম দেশ হিসেবে  ইউরোর প্রথম দুই ম্যাচেই হারের রেকর্ড নর্থ মেসিডোনিয়ার।

ইউয়েফা ইউরো ২০২০ এর ই গ্রুপের ইউক্রেন-মেসিডোনিয়া ম্যাচ শেষ হতে তখন মিনিট পাঁচেক বাকি। রাসলান মালিনভস্কির ফ্রি-কিকে দ্যানিয়েল আভ্রামভস্কির হ্যান্ড বল থেকে পেনাল্টি পেয়েছে ইউক্রেন। পেনাল্টি নিতে এসেছেন আবার সেই মালিনভস্কি। তবে গোল করতে পারেননি, তার পেনাল্টি রুখে দেন নর্থ মেসিডোনিয়ার গোলকিপার স্তল দিমিত্রিভস্কি। ৩-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে জয় নিশ্চিত করার সুযোগ হারায় ইউক্রেন। আরেকবার উঁকি দেয় শেষ মুহুর্তের গোলে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের দুই গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউক্রেন।

রোমানিয়ার বুখারেস্টে ম্যাচের শুরু থেকেই ইউক্রেন ছিল আক্রমনাত্মক। পেনাল্টি মিসের মতো পুরো ম্যাচেই গোল মিসের মহড়া দিয়েছেন মালিনভস্কি। নবম মিনিটে তার বল আটকে দেন গোলকিপার, পরের মিনিটেই তার ফ্রি-কিক থেকে গোল করার সু্যোগ হাতছাড়া করেন ইউক্রেন অধিনায়ক  আন্দ্রি যারমোলেঙ্কো। তবে বিশ মিনিট পর আর ভুল করেননি ইউক্রেন ক্যাপ্টেন। তাকে বল সাপ্লাইয়ের নেতৃত্বে আবার সেই মালিনভস্কি, তার ক্রসে উইংব্যাক ওলেক্সান্দার কারাভায়েবের পায়ের ছোঁয়ায় বল পান যারমোলেঙ্কো। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি ইউক্রেন অধিনায়ক।

এক গোল খেয়ে ভেঙ্গে পড়ে নর্থ মেসিডোনিয়া, তার মাশুলও গুনতে হয়েছে দলটিকে। মিনিট পাঁচেক পড়েই আবার গোল খেয়ে বসে তারা। ইউক্রেন অধিনায়ক যারমোলেঙ্কোর পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন রোমান যারেমচুক। মাঝের সময়ে বার কয়েক ইউক্রেন ডিফেন্সের পরীক্ষা নেয় নর্থ মেসিডোনিয়া, তবে স্ট্রাইকারদের ব্যার্থতায় গোলের মুখ দেখেনি দলটা। ৩৯ মিনিটে গোল করেছিল নর্থ মেসিডোনিয়া, তবে গোরান পানদেভের গোল অফসাইডের কারনে বাতিল হলে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় নর্থ মেসিডোনিয়া।

বিরতি থেকে ফিরে নিজেদের গুছিয়ে নেয় নর্থ মেসিডোনিয়া, ফলও এসে যায় দ্রুত। মিনিট দশেকের মধ্যেই পেনাল্টি পেয়ে যায় তারা। এজান আলিওস্কির পেনাল্টি ইউক্রেন গোলকিপার হেওরি বুসকান প্রথমবার সেভ করলেও ফিরতি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি লিডস ইউনাইটেড মিডফিল্ডার। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইউক্রেন, তারাও বল জালের জড়াতে পারেনি। এই দুই পেনাল্টি মিস নিয়ে এবারের আসরে সর্বমোট পাঁচ পেনাল্টির চারটাতেই গোলে পরিনত করতে পারেননি খেলোয়াড়রা।

ম্যাচের বাকিটা সময় নর্থ মেসিডোনিয়া সমতা ফেরাতে  প্রাণপন চেষ্টা করেছে, ইউক্রেনের চেষ্টা ছিল ব্যবধান বাড়ানোর। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় আর গোল পায়নি কোনো দল। ফলে নিজেদের ইউরো ইতিহাসের দ্বিতীয় জয় তুলে নিলো ইউক্রেন। ২০১২ সালে সুইডেনের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন ছিল ইউক্রেন। এবার সেই রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটালো তারা।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img