১ মার্চ ২০২৪, শুক্রবার

প্রথম ৫ উইকেট মিরাজরা যত সহজে ফেলেন, শেষ ৫ উইকেট ফেলতে হয় তত কষ্ট!

- Advertisement -

গত বছরের ডিসেম্বরের ঘটনা, মিরপুর টেস্ট জিততে ভারতকে করতে হতো ১৪৫ রান। স্কোরবোর্ডে অর্ধেক রান তুলতেই ভারত হারিয়ে ফেলেছে সাত ব্যাটার। ৭৪ রানে সাত উইকেট হারানো টিম ইন্ডিয়া ঐ ম্যাচ, হাতে থাকা ঐ তিন উইকেটেই জিতেছে। অষ্টম উইকেট জুটিতে রবীচন্দ্রন অশ্বিনকে সাথে নিয়ে ৭১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জেতান শ্রেয়াস আইয়ার।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে প্রশ্ন করা হয়, এই ইনিংসের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসেও শেষ তিন উইকেটে ৪৩ রান তোলে ইন্ডিয়ান টেল এন্ডাররা। চট্টগ্রাম টেস্টেও হয়েছিল একই দশা। এই সমস্যার সমাধান কী? সাকিব সমাধান বাতলে না দিয়ে অনেকটাই আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যস্ত ছিলেন, “মিরপুরে এমন হয়। যত সময় গড়ায় উইকেটে তত ভালো ব্যাট করা যায়। আমাদের লিটন-সোহান-তাসকিনও শেষদিকে ভালো ব্যাট করেছে”

ম্যাচ জিতে সেদিন এভাবেই উল্লাস করেন অশ্বিন-আইয়ার। ছবি: সংগ্রহীত

এবার এই ডিসেম্বরে ফেরা যাক, বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টে। ভারতের সাথের সেই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও দেড়শর কম রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ দল, শুরুও একই রকম। ৭১ রানে ৬ আর ৭৪ রানে সেদিন পড়েছিল ৭ উইকেট, এদিন ৬৯ রানেই প্যাভিলিয়নে নিউজিল্যান্ডের টপ সিক্স। দুই ম্যাচেই এরপর আর উইকেট ফেলতে পারেননি বাংলাদেশি বোলাররা। ফলে এক ডিসেম্বরে ভারতকে প্রথমবারের মতো টেস্ট হারানোর সুযোগ হারাতে হয়েছে, অন্য ডিসেম্বরে মিস হয়েছে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডকে টেস্ট সিরিজ হারানোর সুযোগ।

এই দুই ম্যাচ উদাহরণ মাত্র, আসল চেহারা আরো ভয়াবহ। প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই প্রতিপক্ষের টেল এন্ডাররা প্রতিরোধ গড়েন, শেষদিকে যোগ করেন অনেক রান। যা বাংলাদেশকে একটু একটু করে ম্যাচ থেকে ছিটকে, অনেকক্ষেত্রে ঐ কয়টা রানই হয় ম্যাচ হারের কারণ। গত এপ্রিলে আয়ারল্যান্ড সিরিজেও একই ঘটনা ঘটেছে, ৫১ রানে ৫ উইকেট ফেলে দেওয়ার পরও আইরিশরা তুলেছিল ২৯২ রান!

বাংলাদেশি বোলারদের পরীক্ষা নিয়েছিলেন টাকার ও ম্যাকব্রাইন। ছবি: সংগ্রহীত

টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ দলের ভালো না করার পেছনে টেল এন্ডার অনেক বড় একটা কারণ। টাইগারদের টেল এন্ডাররা ভালো ব্যাট যেমন করতে পারেন না, লেজ ছাঁটতেও তারা একদমই পটু না। কিন্তু কেন?

অনুশীলনকে একটা কারণ হিসেবে ধরা হয়! বোলাররা সাধারণত টেল এন্ডারদের বোলিং করেন না। ফলে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের বোলিং করার ঐ অভ্যস্ততা তাইজুলদের তৈরী হয় না, পাশাপাশি তাইজুলরা অধিকাংশ সময় খেলেনও পার্ট টাইমারদের বল কিংবা সর্বোচ্চ সাইড আর্ম স্পেশালিষ্টদের থ্রো করা বল। ফলে সত্যিকারের প্রস্তুতি হয় না, আর প্রস্তুতি ভালো না হলে; ফলাফল পক্ষে আসবে কী করে?

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img