২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

প্রয়োজন একটা জয়ের

- Advertisement -

বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে, ভক্ত-সমর্থকেরা স্বপ্ন সাজাতে ব্যস্ত। একটাই দল, কোটি মানুষের আবেগ তাতে মিশে। টাইগাররা জিতবে এমনটাই প্রত্যাশা সতেরো কোটি হৃদয়ের। কিন্তু, জীবনের সকল আশা কখনো কি পূরণ হয়? হয় না বলেই হয়তো টাইগার শিবিরে নেই কাঙ্ক্ষিত সেই জয়। তবুও আশায় বুক বাঁধা মানুষের অভাব নেই দেশটায়, সুখ বলতে যে ঐ ক্রিকেটটাই।

জাতীয় দলে খেলা কারোর প্রতিভা নিয়ে সংশয় থাকা উচিত নয়। তাই বলে জেতা ম্যাচগুলোতেও আসবে না জয়, এটা কি করে হয়! টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পেরিয়েছে বিশ বছর। বলার মতো জয় তো হাতেগোণা কয়েকটাই। প্রতি সিরিজ হারের পরেই শোনা গিয়েছে হার থেকে শিখছে টাইগাররা। আসলে কতোটুকু শিখেছে টাইগাররা? এই শেখার শেষটাই বা কোথায়!

হঠাৎ করেই সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। কোথাও কিছুই যেন ঠিক নেই। খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের কমতিটা চোখে মুখে স্পষ্ট; নিজেদের ন্যাচারাল খেলাটাও খেলতে পারছে না ঠিকমতো। সেইসাথে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন, বিভিন্ন ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতামত, সিনিয়র খেলোয়াড়দের নানান কথাতে উঠেছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়; ব্যবধান তৈরী হয়েছে সমর্থকদের সাথে খেলোয়াড়দের হৃদয়ের যোগাযোগটাতেও।

আলোচনা সমালোচনাগুলো যে স্পর্শ করে টাইগারদেরও সেটা অকপটেই স্বীকার করেছিলেন বাংলাদেশ দলের  অধিনায়ক। একটু পেছনে ফিরে গিয়ে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সংবাদ সম্মেলনে যাওয়া যাক,

“সমালোচনাগুলো আমাদের সবাইকেই স্পর্শ করে। আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও ফিলিংস কাজ করে। খারাপ খেলেছি অবশ্যই সমালোচনা হবে। কেন হবে না? কিন্তু, সমালোচনার মাধ্যমে কাউকে যেন ছোট করে না দেখা হয়”

অধিনায়কের কথায় বরফটা কিছুটা গললেও, দ্বিতীয় পর্বে লঙ্কানদের বিপক্ষে হারের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিম এসে বিতর্ক দিয়েছেন উসকে। যারা সমালোচনা করেন, তাদের নিয়েছেন একহাত। বলেছেন,

“যারা এরকম কথা বলে থাকেন তাদের নিজেদের মুখটা একটু আয়নায় দেখা উচিত। কারণ, তারা বাংলাদেশের হয়ে খেলে না। আমরাই খেলি। সবাই ভাল করার চেষ্টা করে। কোনোদিন হয়, কোনোদিন হয়না”

একে তো ম্যাচে হার, তার ওপর এমন কথা। ভক্ত-সমর্থকদের মেজাজ তখন চরমে পৌঁছেছে। এমন সময়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ফেসবুক স্ট্যাটাস; এবং সাবেক অধিনায়ক খেলোয়াড়দের রক্ষা করে দোষগুলো ঠেলে দিয়েছেন কোচিং স্টাফ এবং ম্যানেজমেন্টের দিকে।

“এখন টিম ম্যানেজমেন্ট দেখলে মনে হয় একটা রিহ্যাব সেন্টার, যেখানে সাউথ আফ্রিকার সব চাকরি না পাওয়া কোচগুলো একসাথে আমাদের রিহ্যাব সেন্টারে চাকরি করছে”

কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, আলোচনা-সমালোচনা নতুন কিছু নয় বাংলাদেশ ক্রিকেটে। কিন্তু, প্রতিবারই টাইগারদের জয়েই হয়েছে সবকিছুর অবসান। এবারেও প্রয়োজন সাকিব-রিয়াদদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। একটা জয় বদলে দিতে পারে পুরো দৃশ্যপটটাই। একটা জয়ই পারে টাইগারদের স্বরুপে ফেরাতে। ভক্ত-সমর্থকেরাও যে আছে সেই স্বপ্নতেই ডুবে।

“স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা..’’

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা এই লাইনগুলোই যেন এইমুহুর্তে সতেরো কোটি মানুষের প্রতিচ্ছবি। ছোট্ট এই দেশটা তো স্বপ্ন দিয়েই তৈরী, স্বপ্নেই আছে টিকে। স্মৃতিগুলোও চিরকাল থেকে যায় অমলিন হয়েই। টাইগাররা হারলে যতোই গালি দেই না কেনো, সমালোচনা যতোই হোক না কেনো, সব তো ঐ স্বপ্নটা না পূরণের যন্ত্রনাতেই। সবকিছুকে পেছনে ফেলে ওরা ১৬ জন করুক নতুন শুরু। সতেরো কোটি মানুষ সব ভুলে মিলে মিশে আবারো হয়ে যাক একাকার। চায়ের কাপে জমে উঠুক আড্ডা, মুখে ফিরুক হারাতে বসা হাসিটাও। প্রয়োজন শুধু একটা জয়ের..

 

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img