১০ ডিসেম্বর ২০২২, শনিবার

বাংলাদেশ কখনো যা পারেনি, এবার তাই করা সম্ভব: রাসেল ডমিঙ্গো

- Advertisement -

বাংলাদেশে বসে রাসেল ডমিঙ্গোর বক্তব্য শুনে এই রিপোর্ট যখন লেখা হচ্ছে, তখন নিউজিল্যান্ডে বিকেল। প্রথম ম্যাচের ভেন্যু ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালে টাইগারদের নির্ধারিত অনুশীলনও শেষ হয়েছে। শিষ্যদের তালিম দিয়ে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন হেড কোচ, রাসেল ডমিঙ্গো।

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্ল্যাক ক্যাপদের দেশে কেমন পারফর্ম করবে? এই আলোচনা গেল ৪৮ ঘন্টায় যে গতিতে ছুটেছে, তারচেয়ে ঢের বেশী বেগ ছিলো রস টেলর না থাকার খবরে। কেন উইলিয়ামসনের পর হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বাদ রস টেলর; প্রথম ওয়ানডেতে একসাথে উইলিয়ামসন-টেলরের না থাকা বাংলাদেশের জন্য পোয়াবারো কিনা? রাসেল ডমিঙ্গোর কাছে নিউজিল্যান্ডের সাংবাদিকদের ওটাই ছিলো প্রথম প্রশ্ন। ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, “নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট অনেকদিন ধরেই লক্ষ্য করি। যথেষ্ট ভালো ক্রিকেটার রয়েছে। তারপরও ওদের বিকল্প (উইলিয়ামস-টেলর) হয়ে ওঠা কঠিন। দুজনের না থাকা অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো খবর। অন্যদিকে নতুন যারা খেলবে, তারাও নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতে যথেষ্টই মুখিয়ে থাকবে”

উইলিমসন-টেলর না থাকায় টাইগার বোলাদের অনেকেই নাকি হতাশ! ডমিঙ্গো নিজেই জানিয়েছেন। তিনি মুখে যাই বলুন, বাংলাদেশ যে মনে মনে খুশি হয়েছে; সেটা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না। দুই কিউই সিনিয়র একসাথে না থাকা বাংলাদেশের জন্য স্বস্ত্বি হলেও নির্ভার থাকার এতটুকু সুযোগ নেই। নিউজিল্যান্ডে কখনো কোন ম্যাচ না জেতা তামিমের দলকে সর্ব্বোচ্চ প্রস্তুতি এবং নিখুঁত পরিকল্পনা করেই নামতে হবে। নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রাখা ডমিঙ্গো নতুন ইতিহাস গড়ার সাহস দেখাতে চান।

“সাউথ আফ্রিকার সাথে নিউজিল্যান্ড সফরে এলেও বাংলাদেশের সাথে এবারই প্রথম। আমি খুব ভাল জানি, এখানে পারফর্ম করা কতোটা কঠিন। এই সফরগুলো আমাদের জন্য দারুন সুযোগও বটে! বিশ্বকাপের বাকি তিন বছরেরও কম আর নিউজিল্যান্ড অন্যতম ফেভারিটদের মধ্যেই বিবেচিত হবে। আমরা যদি নিজেদের ২০২৩ বিশ্বকাপের দাবিদার হিসেবে ভাবতে বা দেখতে চাই, বড় দলগুলোর বিপক্ষে এই ধরনের (নিউজিল্যান্ড সফর) সিরিজে খুব ভাল পারফর্ম করতে হবে। সেজন্যই আমরা নিউজিল্যান্ডে এমন কিছু করতে চাই যা কখনো, কোন বাংলাদেশী দল করতে পারেনি”

ফাইল ছবি

ডমিঙ্গোর কথাতে ইতিবাচক মনোভাবের আভাস পাওয়া যায়। ধরে নেয়া যেতেই পারে, দলের মধ্যেও এই একই মনোভাব, একটাই ভাবনা; নিউজিল্যান্ডকে এবার হারাতে হবে। হারাতেই হবে! আর সেজন্য টাইগারদের নতুন এবং ব্ল্যাক ক্যাপদের কাছে অচেনা ক্রিকেটাদের ট্রাম্প কার্ড হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে মনে করা ডমিঙ্গো নতুনদের বাজিয়ে দেখার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

“আমাদের কয়েকজন নতুন ফাস্টবোলার উঠে এসেছে, যাদের নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আগে দেখেনি, খেলার প্রত্যাশাও হয়তো করছে না, আমি তাই মনে করি। হাসান মাহমুদ, তাসকিনরা এই মূহুর্তে দারুণ বল করছে। আমি সত্যিই আমাদের পেস বোলারদের নিয়ে রোমাঞ্চিত”

এখন স্বাভাবিক প্রশ্ন, যেহেতু হেড কোচ বলছেন নিউজিল্যান্ড খেলার প্রত্যাশা করে না এমন ফাস্টবোলার রয়েছে, তাহলে কি প্রথম ওয়ানডেতেই হাসান মাহমুদ বা শরিফুলকে খেলিয়ে দেয়া হবে? সেটাতো করা যেতেই পারে কিন্তু মনে রাখতে হবে, পরিকল্পনা ঠিকঠাক হওয়া খুব জরুরী আর এমনিতেও “ভাল প্ল্যানার” হিসেবে রাসেল ডমিঙ্গোর সুনাম এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেটে তৈরী হয়নি।

আরেকটা কথা, ডানেডিনের মাঠ কিন্তু বেশ ছোট!! বাউন্ডারি ৬০-৬৫ গজের আশপাশে, তিনশো রান যেখানে খুব সাধারণ। রাসেল ডমিঙ্গো এসব কিছু মাথায় রেখেই পরিকল্পনা সাজাবেন বলে আশা করা যায়। আর যে কোন টুর্নামেন্ট বা সিরিজের প্রথম ম্যাচ কতোটা গুরুত্বপূর্ণ, সেতো আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img