১৪ জুলাই ২০২৪, রবিবার

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও দুর্দান্ত মঈন আলী, কুমিল্লার বড় জয়

- Advertisement -

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দেওয়া ২৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে যখন ৬ ওভার শেষে তানজিদ তামিম-জশ ব্রাউন ৬১ রান তুললেন, তখন মনে হচ্ছিল ভালোই জবাব দিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। তবে দুই ওপেনার ফেরার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা। লিটন কুমার দাশের দলের কাছে ৭৩ রানের ব্যবধানে হেরেছে শুভাগত হোমের দল।

গত ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া তানজিদ এদিন শুরু থেকেই খেলেছেন আক্রমণাত্মক। যদিও একবার ভুল বোঝবুঝিতে তার ক্যাচ লিটন-ফোর্ড তার ক্যাচ ছেড়েছিলেন। দারুণ ব্যাটিং করে চট্টগ্রামকে ম্যাচেই রেখেছিলেন। তবে মুস্তাফিজের বলে থার্ডম্যানে উইল জ্যাকসের হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় তার ২৪ বলে ৪১ রানের ইনিংস। তার আগে জশ ব্রাউনের সাথে গড়েছেন ৪৫ বলে ৮০ রানের জুটি।

চট্টগ্রামকে ম্যাচে রেখেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও জশ ব্রাউন জুটি

তানজিদ ফেরার পর দ্রুত ফিরেছেন ব্রাউন। রিশাদ হোসেনের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ঠিকঠাকভাবে টাইমিং করতে পারেননি অজি ব্যাটার। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২৩ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় খেলেছেন ৩৬ রানের ইনিংস।

টম ব্রুস ও শাহাদাত হোসেন দিপু পারেননি তেমন কিছুই করতে। যদিও উইকেটে আসার পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দুজনই। চট্টগ্রামকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করেছিলেন সৈকত আলী ও শুভাগত হোম। ১১ বলে ১ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ৩৬ রানের ক্যামিও খেলেছেন সৈকত। ১৩ বলে ১৯ রান করে ফিরেছেন হোম। বাকি ব্যাটাররা তেমন কিছু করতে না পারলে ১৬৬ রানে থামে চট্টগ্রামের ইনিংস।

বিলাল খান, আলামিন হোসেন ও শহিদুল ইসলামকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মঈন আলী। চলমান বিপিএলে এটি দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে দুর্দান্ত ঢাকার হয়ে এমন কীর্তি গড়েছিলেন শরীফুল ইসলাম।

কুমিল্লার হয়ে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন রিশাদ হোসেন। মঈন ৩.৩ ওভারে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৩৯ রান সংগ্রহ করে কুমিল্লা। উইল জ্যাকস করেছেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। লিটন দাশ ও মঈন আলী দুজনই পেয়েছেন ফিফটির দেখা।

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও দুর্দান্ত ছিলেন মঈন আলী

চট্টগ্রামের দারুণ ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ইনিংসের শুরু থেকেই বন্দর নগরীর দলটির বোলারদের উপর চড়াও হয়েছিলেন এলকেডি। আলামিন হোসেনের উপর দিয়ে ঝড়টা গেছে বেশি। তার প্রথম দুই ওভার থেকে ৩৫ রান তুলেছে কুমিল্লার দুই ওপেনার। চট্টগ্রামকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন পেসার শহিদুল ইসলাম। ৩১ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬০ রান করে লিটন ফিরলে ভাঙে ৮৬ রানের ওপেনিং জুটি। এদিন প্রায় ১৯৪ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছেন এলকেডি। তাওহীদ হৃদয় ফিরেছেন প্রথম বলেই।

কুমিল্লার আরেক ওপেনার জ্যাকস শুরুতে রয়েসয়ে খেলেছেন। এরপর সময় যত গড়িয়েছে রুদ্রমুর্তি ধারণ করেছেন তিনি। ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করা জ্যাকস পরের ৫০ রান করেছেন মাত্র ১৯ বলে। শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ১০ ছক্কায় ১০৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

চলমান বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন মঈন আলী। দুইবার জীবন পেয়েছেন এদিন তিনি। প্রথমে নিহাদুজ্জামান এরপর তানজিদ তামিম ফেলেছেন ক্যাচ। শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মঈন।

চট্টগ্রামের হয়ে ৪ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। চার ওভারে ৬৯ রান দিয়ে উইকেট শুন্য ছিলেন আলামিন হোসেন।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img