NCC Bank
- Advertisement -NCC Bank
৮ আগস্ট ২০২২, সোমবার

মারাদোনার চোখের জল মেসির চোখে!!

- Advertisement -

লিওনেল মেসির জার্সির পেছনে যেটা লেখা সেটা ইংরেজি অক্ষরে কিন্তু ভাষাটা মোটেও ইংরেজি নয়, স্প্যানিশ। “কাম্পেওন দে আমেরিকা ২০২১”….দুই হাজার একুশের আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন, লাতিন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ছবি: টুইটার

খেলা শেষ হয়ে যাবার পর প্রথম পর্বের উদযাপনের সরাসরি টেলিকাস্ট দেখিয়ে একটু বিজ্ঞাপন বিরতি। টিভিতে যখন আবার মারাকানা, ততক্ষণে “কাম্পেওন দে আমেরিকা ২০২১” লেখা জার্সিটা গায়ে চাপাচ্ছেন লিওনেল মেসি। পেছন থেকে ক্যামেরা ধরায় মুখ দেখা যাচ্ছে না, তাতে অবশ্য লিওর মুখ কিংবা মনের ভাষা মনে মনে পড়ে নিতে কষ্ট হবার কথা না। মাঠের কোন অংশে কে কি করছেন সবই ততক্ষণে গৌণ হয়ে গেছে, কারণ আর্জেন্টাইন জার্সিতে মেসি ট্রফি জিতেছেন। অনন্ত অপেক্ষার অবসান কিংবা ১০১টি নীলপদ্ম খুঁজে আনার যে যাত্রা, রোজারিও মেসির অভিযানও তার চাইতে কম রোমাঞ্চকর না!!

চ্যাম্পিয়ন লেখা জার্সিটা পরে লিওনেল মেসি এগিয়ে গেলেন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজেনের দিকে। ছোট্ট একটা বাচ্চা লাফ দিকে প্রিয়জনের কোলে উঠে ঠিক যেভাবে গলা জড়িয়ে ভালবাসা নিতে চায়, মেসিও তাই করলেন। মার্তিনেজের গলা জড়িয়ে রাখলেন প্রেয়সীর মমতায়, ভালবাসার আলিঙ্গেনে। কারণটা অনুমেয়, আবেগে ভেসে যাবার ওই সময়েও মেসির ক্ষুরধার ফুটল মস্তিস্ক জানতো, ওই মার্তিনেজের কারণেই ফাইনালে উঠেছিলো আর্জেন্টিনা। অজন্ম লালিত স্বপ্নের ট্রফিটা ততক্ষণে ছোঁয়া না হলেও জেতা হয়ে গেছে, তাতে মেসির পর কারও অবদান যদি সবচেয়ে বেশি থেকে থাকে সেটা মার্তিনেজের!!

মেসির মুখটা তখন দেখা যাচ্ছে। মার্তিনেজের গলা জড়িয়ে রেখেই হাসছিলেন। চোখ আর নাকের পাশে লালচে আভা। চোখের জলের শেষ বিন্দুটা তখনও হয়তো মিলিয়ে যায়নি, থাকুক না!! ওই এক ফোঁটা আনন্দ অশ্রুর জন্যেই তো কত অপেক্ষা, কত বঞ্চনা; নিন্দুকের বাকা কথা।

ছবি: টুইটার

দল ততক্ষণে কোচকে নিয়ে ব্যস্ত, ঐতিহ্য মেনে ওস্তাদ স্কালোনিকে মাথায় তুলে আনন্দের দোল চলছে। ক্যামেরার লেন্স খুঁজে নিল নেইমারকে, নেইমার খুঁজে নিলেন মেসিকে। খুঁজে পেতে সময় লাগলো পাঁচ সেকেন্ডের মতো আর প্রিয় বন্ধুকে নেইমার জড়িয়ে ধরে রাখলেন পাক্কা তেরো সেকেন্ড। ক্যামেরার লেন্স তখন স্থির, বুকে জমা আনন্দের বান তখন একটু যেন থমকে গেছে!! মেসিকে জড়িয়ে রাখা নেইমারের পিঠটা ফুলে ফুলে উঠছিলো কি? কাঁদছিলেন? প্রিয় বন্ধুর এমন অর্জনে কি কাঁদতে হয়!! হয় নাকি? হয়তো, নেইমার কেঁদেছেন। মেসির মতোই কেঁদেছেন।

ছবি: টুইটার

ব্রাজিলিয়ান হয়েও মেসির হাতে একটা আন্তর্জাতিক ট্রফি দেখতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম না, সেই দলে যে নেইমরাও থাকবেন; ভুলেও এই কথার বিপক্ষে বাজি ধরতে যাবেন না যেনো; তাতে সব খোয়ানোর শঙ্কা থাকবে। ঠিক যেভাবে সব পাওয়া আনন্দে লিওনেল মেসির হাত ভরেছে।

শেষ হওয়া কোপা আমেরিকার আসর সেরা ফুটবলার, সেরা স্কোরার; সবই আপনি জানেন। আপনি দেখেছেন, খেলা শেষেই কিভাবে দুই হাতে মুখে ঢেকে হাঁটু গেড়ে বসেছেন মেসি, চোখের জলে চুকিয়েছেন না পাওয়ার লেনাদেনা, অর্জনের আলোতে বর্নিল করেছেন রিও ডি জেনেইরোর আকাশ, পৃথিবীর সব প্রান্তে ততক্ষনে বার্তা চলে গেছে, মহাবিশ্ব ছাড়িয়ে অন্য কোন জগতেও কি পৃথিবীর বার্তা পৌঁছে?

ছবি: টুইটার

হয়তো পৌঁছে, হয়তো অন্তরীক্ষের ওপারে থাকা দিয়েগো মারাদোনা নামের এক ফুটবল ঈশ্বরের কাছেও বার্তা পৌঁছে যায়, তার চোখের কোন জমে থাকা অপ্রাপ্তির মেঘগুলোই যেনো বৃষ্টি হয়ে ঝড়েছে মেসির চোখে। দিয়েগো যা পারেননি, মেসি সেটা পেরেছেন।

মেসি জিতেছে। আর্জেন্টিনা জিতেছে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img