৬ ডিসেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

মাশরাফী, নির্বাচক এবং বিসিবি

- Advertisement -

দেব চৌধুরী:

১০ জানুয়ারি ২০২১, সব ঠিক থাকলে ওইদিনই বাংলাদেশে আসবে উইন্ডিজ ক্রিকেট দল। সফরে দুই টেস্ট আর তিন ওয়ানডে খেলা হবে। প্যানডেমিক এর পর ঘরের মাঠে প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ বলে কথা!! অবশ্যই আশা, প্রত্যাশা কিংবা উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং টাইগার ভক্তদের একটু বেশি থাকার কথা, সব ঠিক আছে। কিন্তু গেল কয়েক দিনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দল গঠন কিংবা স্কোয়াডে কারা কারা থাকতে পারেন সেটার চাইতে বেশি আলোচনা, মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে নিয়ে; আসন্ন সিরিজের ওয়ানডে দলে তার থাকা না থাকা নিয়েই সংশ্লিষ্টরা অনেক বেশি ব্যস্ত।

কী কারণে বা কোন বিবেচনায় উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে মাশরাফীর ডাক পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ?

সহজ উত্তর হতে পারে, তিনি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা; যিনি ফিনিক্স পাখির মতই বারবার ফিরে আসতে জানেন, যিনি সমালোচনার জবাব দেন পারফরম্যান্স দিয়ে। মাত্র শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপেও দারুণ পারফর্ম করেছেন, বয়সকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছেন। অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর বল হাতেই দিয়েছেন মাশরাফী।

আরকটু কঠিন উত্তর, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাশরাফীকে বাদ দেয়া যেতে পারে বা বাদ দেয়া উচিত, ভেতরে ভেতরে ক্রিকেট বোর্ডের সংশ্লিষ্ট অনেকেই এই আলোচনা বা  বিশ্বাস করলেও, সহজ এই কথাটা সহজ করে কেউ বলার সাহস পাচ্ছে না, হয়তোবা বলতেও চাইছে না। কেনো যেনো মনে হয় একটা অপ্রয়োজনীয় লুকোচুড়ি অপ্রাসঙ্গিকভাবে প্রায় সবার মধ্যেই দৃশ্যমান।

মাশরাফীর দলে অন্তর্ভুক্তি ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট বর্গের প্রায় সবাই একজন আরেকজনের কোর্টে বল ঠেলছে। গেল কয়েক দিনের আলোচনাতে একটা ব্যাপার স্পষ্ট, উইন্ডিজের বিপক্ষে মাশরাফীকে দলে রাখা না রাখা নিয়ে উভয় সংকটে বিসিবি এবং নির্বাচকরা।

অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেছেন, “মাশরাফীকে দলে রাখা না রাখা নির্বাচকদের ব্যাপার”

নির্বাচকরা বলছেন, “মাশরাফী ইস্যুতে তাদের কথাই শেষ কথা নয়। এখানে বোর্ডের হস্তক্ষেপের ব্যাপার আছে”

কদিন আগে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, “আমরাতো ওকে (মাশরাফীকে) বিবেচনায় রেখেছি”

সবাই সবার মতো বলছেন, হয়তোবা যৌক্তিকভাবেই সবাই যার যার জায়গায় ঠিকও আছেন কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শেষ কথাটা কে বলবে? নাজমুল হাসান পাপন, ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাকি নির্বাচকরা? এই ইস্যুতে কেউ কি সাহস করে শেষ কথাটা বলার সাহসটুকু অন্তত দেখাবেন না !!

সবচেয়ে মজার ব্যাপার, মাশরাফী শুরু থেকেই বলে আসছেন তিনি আরো কিছুদিন ক্রিকেট খেলবেন। সেটা জাতীয় দলেই হতে হবে তার কোন মানে নেই। বরং নিজের মতো করে আরো কিছুদিন খেলাটা উপভোগ করতে চান। অর্থ্যাৎ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, যে স্পষ্টতার সর্ব্বোচ্চ উদাহরণ তার অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়া। বিসিবিকে পরিস্কার বার্তা দিয়েছেন, আরেকজন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবেই তিনি বিবেচিত হতে চান। যেখানে পারফর্ম্যান্সের ভিত্তিতেই তাকে দলে ডাকা হবে অথবা ডাকা হবে না। এইদিক থেকে মাশরাফীকে নিয়ে ভক্তরা নিশ্চিত থাকতেই পারেন। তাদের “ম্যাশ” নিজের অবস্থানে পরিষ্কার।

গেল কয়েকদিনের সংবাদ লক্ষ্য করে একজন সাধারণ ক্রিকেট সমর্থকও বলে দিতে পারবে, মাশরাফী ইস্যুতে অবিশ্বাস্য এক অস্বস্তিতে ভোগে বিসিবি, যেখানে কোন কিছুই পরিস্কার করে বলা বা করা হয় না। যদি বিসিবি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফীর আর কিছু দেয়ার নেই, ভবিষ্যতে তাকাতে হবে; সেটাও স্পষ্ট করে বলার সময় এসেছে। মাশরাফীকে বলুন; দর্শকদের জানিয়ে দিন যে, আপনারদের ভবিষ্যত পরিকল্পনায় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

ঠিক যদি উল্টো চিন্তা হয়, আপনারা মনে করে থাকেন আরো কিছুদিন মাশরাফীকে জাতীয় দলে দরকার, সেটাও খেলাসা করে দিন। এই প্যাঁচ লাগানো কথা, একেকবার একেক জনের কোর্টে বল ঠেলা, দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা কিংবা মাশরাফী ইস্যুতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরী করার দায় কেন বিসিবি নিজেদের ঘাড়ে নিচ্ছে?

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img