৬ অক্টোবর ২০২২, বৃহস্পতিবার

যে ইউরো আত্মঘাতী গোলের, যে ইউরো পেনাল্টি মিসের

- Advertisement -

ইউয়েফা ইউরো ২০২০ কে এক লাইনে বর্ণনা করতে বলা হলে কিভাবে করবেন? নিশ্চয়ই ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সেরা-সেরা ফুটবলারদের এক আসরে দেখা, গতিময় ফুটবলে বুঁদ হওয়া কিংবা ধারে-ভারে দুর্বল হয়েও অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী দলগুলোকে হারিয়ে দেওয়া। এর বাইরেও গল্প আছে, তবে যতটা না আনন্দের-শৌর্যবীর্যের, তার থেকেও বেশি লজ্জ্বার। শুনলে অবাক হবেন, চলতি ইউরোতেই সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল হয়েছে, পেনাল্টি মিসের হারটাও পাল্লা দিয়েছে আত্মঘাতী গোলের সঙ্গে।

চলতি আসরের আগে গত দশ আসরে আত্মঘাতী গোল হয়েছিল ৯টি। যার মধ্যে সর্বশেষ ২০১৬ আসরেই হয়েছিল তিনটা। আর চলতি মৌসুমে? ইউয়েফা ইউরো ২০২০ এর গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত নিজেদের জালেই বল জড়িয়েছেন ৮ জন ফুটবলার। সর্বশেষ আসর থেকে ৫টা বেশি আর ইউরো ইতিহাসের সর্বমোট গোলের প্রায় অর্ধেকই এসেছে এবারের আসর থেকে। ডিফেন্ডারদের জন্য এর থেকে লজ্জ্বার আসর বোধহয় আর হতে পারে না।

সকালের সুর্য দেখেই অনেকসময় বলে দেওয়া যায় দিন কেমন যাবে। যে আসর শুরুই হয়েছে আত্মঘাতী গোল থেকে, মোটা দাগে তো বলে দেওয়াই যায় সেই আসরে থাকবে আত্মঘাতী গোলের আধিক্য। উদ্বোধনী ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে নিজেদের জালেই বল জড়িয়েছেন তুরস্ক ডিফেন্ডার মেলি দেমিরাল। যার ফলে ইউরো ইতিহাসে প্রথমবার টুর্নামেন্টের প্রথম গোল এসেছিল আত্মঘাতী থেকে।

ইউরো ইতিহাসের সবথেকে দ্রুততম আত্মঘাতী গোলও এসেছে এবারের আসরে। পোল্যান্ড-স্লোভাকিয়ার ম্যাচে মাত্র ১৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে বসেন পোলিশ গোলরক্ষক ওজিয়েক সেজনি। জুভেন্টাস গোলরক্ষক আরো একটি লজ্জ্বার রেকর্ডের অংশ হয়েছেন। ইউরো ইতিহাসের প্রথম গোলকিপার হিসেবে আত্মঘাতী গোলও দিয়েছেন ওজিয়েক সেজনি।

জার্মানি-পর্তুগালের বিগ ম্যাচ। সে ম্যাচের আগে ইউরোতে কখনোই এক ম্যাচে জোড়া আত্মঘাতী গোল দেখেনি বিশ্ব। সেই অপুর্নতাও ঘুচেছে! জার্মানির বিপক্ষে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে পর্তুগালের রুবিন দিয়াস এবং রাফায়েল গুরায়রা নিজেদের জালেই জড়িয়েছেন বল। এবারের আসরেই একই ম্যাচে দুটো আত্মঘাতী গোল হয়েছে আরেকবার, গ্রুপ-পর্বের শেষদিনে এই লজ্জ্বার অংশ স্লোভাকিয়ার গোলরক্ষক মার্টিন দুভ্রাবকা এবং মিডফিল্ডার জুরাজ কুচকা ।

২০১৬ ইউরোতে সর্বমোট পেনাল্টি গোল এসেছিল ১২ টি, চলতি ইউরোর গ্রুপ পর্বেই পেনাল্টি থেকে গোল এসেছে ১৪টি। যার মধ্যে ছয়-ছয়টি পেনাল্টি থেকেই আবার গোল আসেনি। ইউরোর শুরুতেও ছিল পেনাল্টি মিসের গল্প। তৃতীয় ম্যাচে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি পেয়েছিল ডেনমার্ক। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যার্থ হন ড্যানিশ ফুটবলার এমিল হজবার্গ। শুধুই তাই নয়, চলতি আসরের প্রথম পাঁচ পেনাল্টি থেকে গোল এসেছিল মাত্র একটি।

সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিস করেছে স্পেন, ২০০০ সালে নেদারল্যান্ডসের পর এই প্রথম এমন লজ্জ্বার রেকর্ডের সঙ্গী স্পেন। আরো একটা লজ্জ্বার সঙ্গী স্পেন, ইউরো ইতিহাসে স্পেন ২৭% পেনাল্টি মিস করছে ।

চলতি ইউরোতে একই ম্যাচে দুটো পেনাল্টি মিস করতেও দেখেছে বিশ্ব। ইউক্রেন-নর্থ মেসিডোনিয়ার ম্যাচে নর্থ মেসিডোনিয়ার এগজান অ্যালিওস্কি এবং ইউক্রেনের রাসলান মালিনভস্কি পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যার্থ হন। ২০০০ সালে নেদারল্যান্ডস-ইতালির ম্যাচের পর এই প্রথম দুদলই  পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যার্থ হয়েছে।

স্রোতের বিপরীতে আবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের অধিনায়ক ৪ গোল করে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা, যার তিনটাই আবার এসেছে পেনাল্টি থেকে। এই ইউরোতে এক ম্যাচে দেখা গেছে তিনটা পেনাল্টিও। ফ্রান্স-পর্তুগালের ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে রোনালদো দুটি এবং ফ্রান্সের হয়ে করিম বেনজেমা পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন।

২০ দলের গন্ডি পেরিয়ে চলতিও আসর থেকে ইউরোতে দলসংখ্যা ২৪, ম্যাচ সংখ্যাও তাই বেড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে পেনাল্টি মিসের হার-আত্মঘাতী গোলের হার। তবে যত যাই হোক, ইউরোর চলতি আসর ছাড়িয়ে যাচ্ছে সব পরিসংখ্যান। যার বেশিরভাগেই লেপ্টে আছে লজ্জ্বার কালিমা…

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img