৩১ জানুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার

লিটনের শেষ শটটা যদি ছক্কা হতো!

- Advertisement -

ম্যাচ শেষে এর আগেও প্রেস কনফারেন্সে এসেছেন টাইগার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। হেসেছেন, মজা করেছেন, প্রশ্ন শুনে অবাক হয়েছেন, হয়েছেন বিরক্তও। কিন্তু, আজ সবকিছুই কোথায় যেন হারিয়ে গেছে, পরিচিত হাসিটাও নেই মুখে। চেয়ারটাতে বসতেই পানির বোতলটা তুলে নিলেন হাতে, পিপাসাটা মিটে গেলেও জয়ের ক্ষুধাটা যে মেটেনি ক্যাপ্টেনের! মাথা নীচু করে প্রবেশ করেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে, ফিরলেনও মাথাটা নুইয়েই। মাঝখানে দিয়েছেন বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর। আজ আর কোনো সমালোচনা নয়, আজ আর নয় কোনো অজুহাত। অধিনায়ক মেনে নিলেন সবটাই, শুধু একটা আফসোস করে গেলেন বারবার, ‘লিটনের ঐ শটটা যদি ছক্কা হতো!’

নিদহাস ট্রফির সেমিফাইনাল ম্যাচটার কথা বারবার মনে পড়ছিল হয়তো ভক্ত-সমর্থকদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচটাতেও টাইগারদের প্রয়োজন ছিল শেষ তিন বলে আট রান, ক্যারিবিয়ানদের সাথেও তো সমীকরণটা ছিল এমনই। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এক বল বাকি থাকতেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে এনে দিয়েছিলেন দুর্দান্ত এক জয়। সেই জয়টাই আন্দ্রে রাসেলের বলে আশা করছিলেন সতেরো কোটি সমর্থক, পারেননি রিয়াদ। দোষটা নিয়েছেন নিজের কাঁধেই তুলে।

“শেষ বলটা আমি জানতাম ব্লকহোলেই করবে, যেহেতু লেগে চারটা ফিল্ডার ছিল। আগের দুইটা বল খুব ভালো ইয়র্কার করেছে। মানে আমি তুলতে পারিনি। তো, চিন্তা করছিলাম যদি একটু রুম করি, হয়তো বা যদি ও লেংথ মিস করে তাহলে হয়তো আমি মিড অফের উপর দিয়ে মারতে পারি। বা যদি মিস করে তাহলে কাভার, পয়েন্ট বা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মারতে পারবো। ওটা আমার দোষ, আমি এক্সিকিউট করতে পারিনি।”

পারেননি রিয়াদ, পারেননি কাঙ্ক্ষিত জয়টা এনে দিতে

উনিশ ওভারের প্রথম বলটাতেই ছক্কা এনে দিয়েছেন রিয়াদ, শেষ বলটাতে চেষ্টা করেছিলেন লিটনও। নিশ্চিত ছক্কাটা বাউন্ডারি লাইন পেরোয়নি জেসন হোল্ডারের কারণে। ছক্কাটা হলে দৃশ্যপটটা হতে পারতো অন্যরকম, শেষ ওভারে জয়টাও হতে পারতো সহজ। কিংবা, শেষ বলটাতে যদি ছক্কা নাও হতো, পিচে থাকতো দুজনই তাও হয়তো আসতে পারতো কাঙ্ক্ষিত জয়টাও!

“ঐ সময়টাতে যখন ব্যাটিং করছিলাম আমরা, ঠিকঠাকমতোই ব্যাটিং করছিলাম। আমার আর লিটনের জুটিটাও ভালো হচ্ছিল। রাসেলের ঐ ওভারটা বা তার আগের ওবারটায় ব্রাভোর ঐ বলে অলমোস্ট যদি ঐ ছয়টা হয়ে যেত তাহলেই আমরা অনেক এগিয়ে যেতাম। আমার মনে হয়, ঐটা বড় একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল ম্যাচের। দুইজন সেট ব্যাটসম্যান যদি পিচে থাকতে পারতাম, শেষ ওভারে হয়তো একটা বাউন্ডারী বা একটা ছয় মারতে পারতাম।”

লিটনের ছক্কাটা যদি হতো!

পিচে ব্যাট করাটা তুলনামূলক কঠিন ছিল। তাই, ব্যাটসম্যানদেরও খুব বেশী দোষারোপ করার সুযোগ নেই। বোলাররা একটু ভালো হয়তো করতেই পারতো। মুস্তাফিজের শেষ ওভারের তিনটা ছক্কাই তো কাল হয়ে দাড়ালো শেষমেশ! তবুও, ক্যাপ্টেন দোষ দিতে চাননা কাউকেই। তবে, আক্ষেপ ঝড়েছে উইকেট তুলে নেয়ার বেশ কয়েকটা সুযোগ মিস করাতে।

“উইকেট কিছুটা কঠিন ছিল আমরা দেখেছি। কারণ, আমরা যখন বোলিং শুরু করেছিলাম, যখন ব্যাক অব দ্যা লেংথে বোলিং করা হচ্ছিলো তখন উইকেটে ওভাবে খুবেকটা বল আসছিল না। বাউন্সটা কিছুটা ভালো হচ্ছিলো। এটা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। ওভাবেই বোলিং করছিলাম আমরা। যেই এক দুইটা চান্স এসেছিল, ওগুলো যদি নিতে পারতাম হয়তো আরো দশটা রান কম হতো। আমাদের জন্য হয়তো চেজটা সহজ হতো।”

“কেউ তো আর ইচ্ছে করে মিস করে না। কিন্তু আমরা তো আশা করি যে ওরা সুযোগগুলো কাজে লাগাবে। যেহেতু এখন ধারাবাহিকভাবে ঐ মিসটেকগুলো করছি ম্যাচ বাই ম্যাচ, অবশ্যই এটা একটা চিন্তার বিষয়। আমার তো মনে হয় যে, আমাদের ক্যাচিংয়ে আরো ভালো করতে হবে। এবং করাও উচিত।”

ক্যাচিংয়ে কাজ করতে হবে টাইগারদের

স্লগ ওভারে দ্রুত রান করতে পারার কারণেই দলে নেয়া হয় নুরুল হাসান সোহানকে। ইনজুরির কারণে সোহান ছিলেন না দলে। তার জায়গায় অফফর্মে থাকা তিন ওপেনারকেই কেনো খেলানো হলো, কেনো খেলানো হলো না স্লগ ওভার স্পেশালিস্ট খ্যাত শামীমকে তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কিন্তু, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ জানিয়ে দিয়েছেন শামীম একজন প্রোপার ব্যাটসম্যান, স্লগার ব্যাটসম্যান না। সেইসাথে অধিনায়কের কণ্ঠ থেকে ঝড়েছে অপ্রিয় একটা সত্য কথাও! বাংলাদেশেই যে নেই কোনো পাওয়ারহিটার ব্যাটসম্যান!

“প্রথমত, আমি ভুলটা ভাঙ্গাই। শামীম কোনো স্লগার ব্যাটসম্যান না। সে প্রোপার ব্যাটসম্যান। স্লগ বলতে মনে হয় না বাংলাদেশে ঐরকম কোনো পাওয়ারহিটার আছে, রাসেলের মতো। আমার জানামতে, ঐরকম কেউ নেই বাংলাদেশে। আমি আবারো বলছি, শামীম কোনো স্লগার ব্যাটসম্যান না। ও প্রোপার ব্যাটসম্যান। ওরও সময় লাগে এক দুই বল, বাট হি কেন হিট। এভরিওয়ান কেন হিট। সবারই একটা মোমেন্টাম লাগে। হি কেন হিট লং, ওর গায়ে ওমন পাওয়ার আছে। কিন্তু ওকে স্লগার আখ্যা দেয়াটা ঠিক না।”

শামীমকে স্লগ ওভার স্পেশালিস্টের তকমা দিতে বারণ করেছেন রিয়াদ

সেমিফাইনালের আশাটা নেই বললেই চলে। তবুও জয়ের স্বপ্নটা অধিনায়কের চোখে মুখে, “এখনো অনেক কিছু পাওয়ার আছে। আমার মনে হয়, সেমিফাইনালের আশাটা কিছুটা ক্ষিণ হয়ে গেছে। কিন্তু দুইটা ম্যাচ আছে। যদি ইনশাআল্লাহ জিততে পারি, দলের জন্য ভালো কিছু একটা হবে। চেষ্টা করছি সবাই। মরিয়া হয়েই চেষ্টা করছি। সবাই মিলেই চেষ্টা করছি। মাঠে হানড্রেড পারসেন্ট কমিটমেন্টই দেয়ার চেষ্টা করছি। মিসটেক হচ্ছে, কিন্তু দুইটা ম্যচ জেতার চেষ্টা করবো।”

আরো একটা বিশ্বকাপে আরো একবার অসহায় টাইগাররা। সতেরো কোটির এই দেশ তো সুখের বন্যায় ভাসে সাকিব-রিয়াদদের জয়েই। টাইগাররা হারলে যতোই গালি দেই না কেনো, সমালোচনা যতোই হোক না কেনো, সব তো ঐ স্বপ্নটা না পূরণের যন্ত্রনাতেই। সবকিছুকে পেছনে ফেলে ওরা ১৬ জন করুক নতুন শুরু। সামনের বছরেই আরো একটা বিশ্বকাপ উঁকি দিচ্ছে। নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে বাংলাদেশ দল এগিয়ে চলুক দুর্বার গতিতে। জয়ে ফিরুক টাইগাররা, মুখে ফিরে আসুক হাসিটাও। এই হাসিটার দেখাই যে আজকাল মেলে কালেভদ্রে!

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img