১ ডিসেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ম্যাচেই পাঁচ বিশ্ব রেকর্ড!

- Advertisement -

সোমবারের দিনটা যেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বিশ্ব রেকর্ডের দিন! ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফিতে এক ম্যাচেই ঘটেছে পাঁচটা বিশ্ব রেকর্ড! এক ইনিংসে দলীয় ৫০৬ রান, ৪১৬ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ, ব্যক্তিগত ২৭৭ রান সংগ্রহ, টানা ৫ ম্যাচে ৫টা সেঞ্চুরি এবং ৪৩৫ রানের বিশাল জয়; সবই ঘটেছে অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে তামিল নাড়ুর ম্যাচে।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৭৭ রান করে রেকর্ড গড়েন তামিল নাড়ুর ওপেনার নারায়ণ জগদিশান

টস জিতে তামিল নাড়ুকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোই যেন অরুণাচল প্রদেশের জন্য ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। ওডিআই ম্যাচকে টি-টোয়েন্টিতে রুপ দিয়েছেন তামিল নাড়ুর দুই ব্যাটার সাই সুদর্শন ও নারায়ণ জগদিশান। দুই ওপেনারের ব্যাটিং তোপে পাত্তা পায়নি অরুণাচলের কোন বোলার। এ দুই ব্যাটার গড়েছেন ২৩১ বলে ৪১৬ রানের ওপেনিং জুটি। যা ভেঙ্গেছে ৭ বছর আগে করা ক্রিস গেইল ও মারলন স্যামুয়েলসের দ্বিতীয় উইকেটে গড়া ৩৭২ রানের জুটিকে।

টানা পাঁচ ম্যাচে পাঁচটি শতক হাঁকানো একমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটার নারায়ণ জগদিশান

ওপেনিং জুটির বিশ্ব রেকর্ড ভেঙ্গেই দমে যাননি তামিল নাড়ুর দুই ব্যাটার। পূরণ করেছেন শতকের ক্ষুদাও। একজন শতকের ঘরে আটকে গেলেও, অন্যজন ব্যস্ত ছিলেন রানের অঙ্কটাকে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে। যদিও সেটা পূরণ হয়নি। কিন্তু তাতে কি! এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের মালিক তো ঠিকই বনে গেছেন নারায়ণ জগদিশান। প্রায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা এই ব্যাটার দেড়শো বলেরও কম খেলে রান করেছেন পাহাড়সম ২৭৭। যেখানে ছিল ২৫টি চার ও ১৫টি ছয়ের মার। তার এই ইনিংস ভেঙ্গেছে ২০ বছর আগে করা এডি ব্রাউনের এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সবোর্চ্চ ১৬০ বলে ২৬৮ রানের ইনিংসকে।

এছাড়া আরেকটি রেকর্ডও গড়েছেন জগদিশান। বিজয় হাজারে ট্রফিতে পরপর ৫ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন এই ব্যাটার। প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিজয় হাজারেতে পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকানোর মালিকও তিনি। ২০০৮-০৯ মৌসুমে বিরাট কোহলি, ২০২১-২১ মৌসুমে দেবদূত পাড়িক্কল, ২০২০-২১ মৌসুমে পৃথ্বী শ ও ২০২১-২২ মৌসুমে রুতুরাজ গায়কোয়াড় ৪টি শতরান করেছিলেন। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা চারটি শতক হাঁকিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা। এবার সেই রেকর্ডের মালিক নারায়ণ জগদিশান।

নারায়ণ জগদীশানকে সঙ্গ দেওয়া ওপেনার সাই সুদর্শনও ছিলেন ব্যাটে রান তোলায় ব্যস্ত

অন্যদিকে নামের সাথে ব্যাটেও সুদর্শন ছিল ১৫০.২ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা আরেক ওপেনার সাই সুদর্শন। তার ব্যাট থেকে আসে ১০২ বলে ১৫৪ রানের ইনিংস। যেখানে ছিল ১৯টি চার এবং ২টি ছয়ের মার।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার ওভার শেষে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৫০৬ রান সংগ্রহ করে আরেকটি রেকর্ড গড়ে তামিল নাড়ু। চলতি বছর ডাচদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের করা দলীয় সর্বোচ্চ ৪৯৮ রানের রেকর্ড ভেঙ্গেছে দলটি।

৫০৭ রানের বিশাল টার্গেটে ৩০ ওভারও বাইশ গজে টিকে থাকতে পারেনি অরুণাচলের ব্যাটাররা। সবগুলো উইকেট হারিয়ে আটকে গেছে মাত্র ৭১ রানে। ৪৩৫ রানের এ জয়েও ঘটেছে আরেকটা বিশ্ব রেকর্ড! এ যেন রেকর্ডের ছড়াছাড়ি। সবশেষ ১৯৯০ সালে ৩৪৬ রানে বিশাল ব্যবধানে ডেভনকে হারিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল সামারসেট। সেই রেকর্ডটিও এখন তামিল নাড়ুর দখলে।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img