২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, মঙ্গলবার

শেষ ওভারের রোমাঞ্চে জিতেছে আবাহনী

- Advertisement -

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) সুপার লিগের টান টান উত্তেজনার ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ১ উইকেটে হারিয়ে জয়রথ অব্যাহত রেখেছে মুশফিকুর রহিমের আবাহনী লিমিটেড।

ছবিঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ ইন্টারনেট

মিরপুরে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আবাহনী অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার সিদ্ধান্তকে স্বার্থক করেন আবাহনীর স্ট্রাইক বোলার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আঁটোসাটো বোলিং করে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন গাজী গ্রুপের দুই ওপেনার শেখ মেহেদি হাসান এবং সৌম্য সরকারকে। সফলতাও আসে দ্রুত, নিজের দ্বিতীয় ওভারেই লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন শেখ মেহেদি হাসানকে।

গাজী গ্রুপের হয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে নেওয়ার দায়িত্ব নেন ইনফর্ম ওপেনার সৌম্য সরকার এবং জাকির হাসান । দুই বাঁহাতির জুটি টিকেছে অষ্টম ওভার পর্যন্ত, দলীয় ৫৩ রানে সৌম্যকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙ্গেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুই ছক্কায় ২৪ বলে সৌম্য করেন ৩০। জাকিরও ফিরেছেন এরপরেই। ২৭ বলে ২৫ করে ফিরেছেন জাকির, তাকে আউট করেছেন তানজিম হাসান সাকিব।

ছবিঃ বিসিবি
ছবিঃ বিসিবি

জাকিরের বিদায়ের পর ক্রিজে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি ক্যাপ্টেন। লিগ পর্বের খেলার মতো সুপার লিগেও আবাহনীর বিপক্ষে ব্যার্থ হয়েছেন রিয়াদ। ১৬ রান করে আউট হয়েছেন রিয়াদ, মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফিরিয়েছেন মেহেদি হাসান রানা। একবল পর বাঁহাতি পেসারের আবার আঘাত, এবার মুশফিকের ক্যাচে তার শিকারে পরিনত হয়েছেন আরিফুল হক।

এক ওভার পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জোড়া আঘাত। ফিরিয়েছেন দুই আলীকে, ইয়াসির এবং আকবর। ইয়াসির ফিরেছেন লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে, আর আকবরকে সাইফ করেছেন বোল্ড। পরের ওভারে মেহেদি হাসান রানাকে পরপর তিন চার মেরেছেন মুমিনুল হক, মূলত মুমিনুলের ১২ বলে ২৫ রানেই মান বেঁচেছে গাজী গ্রুপের। ১৯.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে গাজী গ্রুপের বোর্ডে রান ১৩০। আবাহনীর হয়ে মাত্র ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

১৩১ রানের ছোট লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই সৌম্য সরকারের অসাধারণ ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইনফর্ম মুনিম শাহরিয়ার। তাকে শুন্য রানে আউট করেন নাসুম আহমেদ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই দুই চার মেরে দারুন ইনিংসের আভাস দিয়েছিলেন লিটন দাস। তবে তিনিও ফিরে গেছেন সেট হয়ে। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে শেখ মেহেদি হাসানের বলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেছেন ১৭ বলে ২২ রান।

পাওয়ার প্লের আগেই দুই উইকেট হারানোর পর প্রাথমিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত। ১০ ওভারে আবাহনীর বোর্ডে রান তখন ৬০। সহজ জয়ের স্বপ্ন তখন আবাহনী সমর্থকদের মনে। ১১তম ওভারে জোড়া আঘাতে আকাশি-নীলদের সেই স্বপ্ন গুড়িয়ে দেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। প্রথম বলে আকবর আলীর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান ১৬ বলে ১২ রান করা মুশফিককে, এক বল পর আবারো আকবরের হাতে ক্যাচ। এবার আউট হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন, শুন্য রানে।

ছবিঃ বিসিবি
ছবিঃ বিসিবি

এক ওভার পর আবার নাইম শেখকে বোল্ড করেছেন শেখ মেহেদি হাসান। নিয়মিত বিরতিতে আবাহনী উইকেট হারালেও একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে আউট হওয়ার আগে দুই ছক্কায় করেছেন ৫৮, দলের রান তখন ১১৮। জয়ের জন্য সাত বলে আবাহনীর রান দরকার তখন ১৩। গাজী গ্রুপের জয়ের বিরুদ্ধে গলার কাঁটা ছিলেন শান্ত, সেই কাঁটাকে উপরে ফেলেছেন মুকিদুল। এই ডানহাতি পেসারের বলে যখন বোল্ড হলেন শান্ত, স্বস্তির নিঃশ্বাস তখন রিয়াদদের বুকে।

তাদের হাঁসি মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। ১৯তম ওভারের শেষ বলে ক্রিজে এসেই চার মেরেছেন মেহেদি হাসান রানা। শেষ ওভারে আবার চার মেরে দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের কাছে। নাসুমের শেষ ওভারে ৯ রানের সমীকরণ মিলিয়েছেন মেহেদি রানা এবং তানজিম সাকিব। এক বল হাতে রেখে এক উইকেটের স্বস্তির জয় আবাহনী শিবিরে। ৪ ওভারে ৩৮ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মুকিদুল ইসলাম, জোড়া শিকার শেখ মেহেদি এবং অধিনায়ক রিয়াদের। সমান ৪ ওভারে মেহেদি ২২ এবং রিয়াদ ১৯ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -

সর্বশেষ

- Advertisement -
- Advertisement -spot_img